অ্যামবিগ্রাম’ নিয়ে কিছু কথা ও কিছু এম্বিগ্রাম1 min read

অ্যামবিগ্রাম কি ?
অ্যামবিগ্রাম (কখনও কখনও ইনভারশন নামেও পরিচিত হয়) এক ধরনের গ্রাফিক্যাল চিত্র বা লেখা যা একটি শব্দকে শুধুমাত্র এক দিক থেকে বানান করেনা বরং অন্য আরেকটি দিক বা অরিয়েন্টেশন থেকেও একইভাবে বানান করতে পারে। অথ্যাৎ যে শব্দ বা বাক্যকে একদিক থেকে পড়লে যেমন দেখায় উল্টা দিক থেকেও একই রকম দেখায় তাকে অ্যামবিগ্রাম বলে।

ambigram শব্দের একটি ঘূর্ণনশীল প্রতিসম অ্যামবিগ্রাম।

উৎপত্তিঃ
ইংরেজি ambigram শব্দটি দুটি ল্যাটিন শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। ambi শব্দের অর্থ উভয় এবং gram শব্দের অর্থ বর্ণ। দুটি মিলিয়ে দাড়াচ্ছে উভয় বর্ণ। অর্থাৎ একই শব্দ যদি দুই দিক থেকে একইভাবে পড়া যায় তবে তা-ই অ্যামবিগ্রাম। ১৯৮৩-১৯৮৪ সালের দিকে ডগলাস আর. হফস্টাটার সর্বপ্রথম অ্যামবিগ্রাম শব্দটি এভাবে প্রকাশ করেন। তিনা বন্ধুদের সাথে বোস্টনে প্রায়ই আড্ডা দিতেন। এই আড্ডা থেকেই কোন এক সময় শব্দটি উঠে আসে। কৃতজ্ঞতা স্বীকারকল্পে হফস্টাটার যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তারা হলেন; গ্রেগ হুবার, ডন বায়ার্ড, হেনরি লিবার্ম, বার্নি গ্রিনবার্গ ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা সবাই তাঁর বন্ধুবান্ধব।( সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)

অ্যামবিগ্রামের ধরণঃ
অ্যামবিগ্রামগুলোকে সাধারণ নিচের বিষয়শ্রেণীগুলোর যেকোন একটিতে বিভক্ত করা যায়:

১। ঘূর্ণনশীল:
এমন ধরনের নকশা যার ফলে কোন একটি শব্দকে অনুভূমিক দিক থেকে পড়ার পর একটি নির্দিষ্ট কোণে ঘুরালেও একইভাবে পড়া যাবে। এই কোণটি সাধারণ ১৮০°, অবশ্য অন্যান্য কোণবিশিষ্ট ঘূর্ণনশীল অ্যামবিগ্রামও রয়েছে; যেমন: ৪৫° এবং ৯০°। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ঘোরানোর পর শব্দটি একই থাকে; কিন্তু মাঝেমাঝে শব্দের খানিক পরিবর্তন হতে পারে। এর একটি উত্তম উদাহরণ হচ্ছে: down শব্দের সংক্ষিপ্ত রুপ dn যাকে ১৮০° কোণে ঘুরালে পড়া যায় up.

চিত্রঃ ঘুর্ননশীল এম্বিগ্রাম।(Vegas)

২।দর্পণ:
এমন শব্দ যাকে কোন দর্পণের সামনে ধরে প্রতিবিম্ব করলেও একই বা সামান্য বিকৃতভাবে হলেও পড়া যায়। যে অ্যামবিগ্রামগুলোকে দর্পণ প্রতিবিম্ব করলে ভিন্ন শব্দের জন্ম দেয় তাদেরকে ‘গ্লাস ডোর অ্যামবিগ্রাম বলা হয়। কারণ এই অ্যামবিগ্রামগুলোকে কাঁচের দরজায় এমনভাবে ছাপানো সম্ভব যাতে ঢোকা এবং বেরনোর সময় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে চোখে পড়ে।

চিত্রঃ দর্পন এম্বিগ্রাম(wiki)

ফিগার-গ্রাউন্ড:
এটি এমন নকশা যাতে এক শব্দের বর্ণগুলোর মধ্যবর্তী শূন্যস্থানের থেকে অন্য শব্দের বর্ণগুলোর মধ্যে শূন্যস্থান বেশী থাকে।

চিত্রঃ ফিগার গ্রাউন্ড এম্বিগ্রাম (thin)

শিকল:
এক্ষেত্রে একটি শব্দ বা অনেকগুলো শব্দ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি পৌনঃপুনিক শিকলের সৃষ্টি করে। একটি বর্ণ অন্যটির উপর পতিত হয় যার অর্থ দাড়ায় ককটি বর্ণ শেষ হওয়ার আগেই অন্য একটি বর্ণ শুরু হয়ে যায়। অনেকসময় এ ধরনের অ্যামবিগ্রামগুলো বৃত্তের আকৃতিতে উপস্থাপিত হয়।

চিত্রঃ শিকল এম্বিগ্রাম (sun)- সান মাইক্রোসিস্টেম এর লোগো

স্পেস-ফিলিং:
অনেকটি শিকল অ্যামবিগ্রামের মতই, তবে এক্ষেত্রে যে দ্বিমাত্রিক ক্ষেত্রে অ্যামবিগ্রামটি আঁকা হয় তার পুরো স্থান জুড়ে টালিকৃত বর্ণগুলো অবস্থান করে।

চিত্রঃ স্পেস ফিলিং এম্বিগ্রাম(orientation)

পৌনঃপুনিক জ্যামিতিক গঠন:
একে ফ্র‌্যাক্টাল অ্যামবিগ্রামও বলা হয়। এক ধরনের স্পেস-ফিলিং অ্যামবিগ্রাম যাতে টালিকৃত শব্দগুলো নিজেদের মধ্য থেকেই শাখা তৈরি করে এবং এরপর নিজেএর মতই আরেকটি রুপে পরিণত হয়। এর ফলে একটি ফ্র‌্যাক্টাল গঠিত হয়। স্কট কিম এ ধরনের অ্যামবিগ্রাম তৈরি করেছেন। তিনি TREE শব্দের একটি অ্যামবিগ্রাম করেছেন।

চিত্রঃ ফ্রাক্টাল এম্বিগ্রাম (tree)

ত্রিমাত্রিক:
একটি ত্রিমাত্রিক নকশা হিসেবে উপস্থাপন করা হয় যার বিভিন্ন কোণ থেকে দেখলে বিভিন্ন বর্ণ বা শব্দ পড়া যায়। constructive solid geometry ব্যবহার করে এ ধরনের অ্যামবিগ্রাম আঁকা যায়।

চিত্রঃ ত্রিমাত্রিক এম্বিগ্রাম (A,B,C)

পারসেপচুয়াল শিফ্‌ট:
এ ধরনের নকশায় কোন প্রতিসাম্য থাকেনা। কিন্তু একই শব্দকে দুটি ভিন্ন শব্দরুপে পড়া যায়। এই পড়ার বিষয়টি নির্ভর করে বর্ণের বিভিন্ন বক্ররেখাগুলো কিভাবে আঁকা হয়েছে তার উপর।

চিত্রঃ পারসেপচুয়াল শিফ্‌ট এম্বিগ্রাম(wave-particle) [বিঃদ্রঃ এইটা বুঝতে আমার কষ্ট হইছে ]  :-S

প্রাকৃতিক :
এমন ধরনের শব্দ বা বাক্য যা স্বাভাবিকভাবে লিখলেই উপরের যেকোন ধরনের অ্যামবিগ্রামের মত হতে পারে। এক্ষেত্রে কোন আলাদা নকশার প্রয়োজন নেই। উদাহরণস্বরুপ dollop এবং suns শব্দ দুটি এক ধরনের প্রাকৃতিক ঘূর্ণনশীল অ্যামবিগ্রাম। bud শব্দটিকে উলম্ব অক্ষের সাপেক্ষে দর্পণ প্রতিবিম্ব করলে একই রকম দেখায়। অতএব এটি প্রাকৃতিক দর্পণ প্রতিবিম্ব অ্যামবিগ্রাম। CHOICE শব্দটিকে বড় হাতের অক্ষরে লিখলে অনুভূমিক অক্ষের সাপেক্ষে একটি দর্পণ প্রতিবিম্ব অ্যামবিগ্রামে পরিণত করা যায়। TOOTH শব্দটিও দর্পণ প্রতিবিম্ব অ্যামবিগ্রাম। তবে এক্ষেত্রে উলম্ব অক্ষের সাপেক্ষে দর্পণ প্রতিবিম্ব করার আগে বর্ণগুলোকে সঠিকভাবে বিন্যস্ত করতে হবে।

চিত্রঃ প্রাকৃতিক এম্বিগ্রাম।
সুত্রঃ উইকিপিডিয়া ।

[u][b]অ্যামবিগ্রামের উদাহরণ:[/b][/u]
গ্রাফিক শিল্পীরা তাদের অনন্য প্রতিসাম্য প্রদর্শনের জন্য অ্যামবিগ্রাম ব্যবহার করে থাকে। এ কারণে লোগে, বইয়ের প্রচ্ছদ, গানের অ্যালবাম এবং বিভিন্ন ট্যাটুর নকশায় অ্যামবিগ্রাম থাকতে দেখা যায়।
অ্যামবিগ্রামের সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রতীকায়ন ঘটেছে মার্কিন ঔপন্যাসিক ড্যান ব্রাউন রচিত অ্যাঞ্জেল্‌স অ্যান্ড ডেমন্‌স নামক রোমাঞ্চকর উপন্যাসে। আমিও ওইখান থেকেই এগুলাই চিনি। এর প্রথম ব্রিটিশ মুদ্রণের প্রচ্ছদে বইয়ের নামটি অ্যামবিগ্রাম হিসেবে লেখা হয়েছে। এই বইয়ের জন্য অ্যামবিগ্রামগুলো এঁকে দিয়েছেন গ্রাফিক শিল্পী জন ল্যাংডন।সম্প্রতি জন ল্যাংডনের অ্যামবিগ্রাম বিষয়ক বই ওয়ার্ডপ্লে-এর পুনর্মুদ্রণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।।
যে সমস্ত বইয়ে এম্বিগ্রাম ব্যাবহার করা হয়েছে,
১।Abarat, বইটির প্রচ্ছদে অঙ্কিত অ্যামবিগ্রাম রয়েছে। বইটির লেখক ক্লাইভ বার্কার
২।Angels and Demons, ড্যান ব্রাউন লিখিত বইটিতে ইলুমিনেটি নামক গুপ্ত সংগঠনের লোগো হিসেবে অ্যামবিগ্রাম ব্যবহৃত হয়েছে।
৩।Gödel, Escher, Bach, ডগলাস আর. হফস্টাটার লিখিত এই বইটিতে GEB-এই তিনটি বর্ণ দিয়ে ত্রিমাত্রিক অ্যামবিগ্রাম আঁকা রয়েছে।
৪।Justin Thyme বইয়ের প্রচ্ছদে। লেখক – পানামা অক্সরিজ
৫।Wordplay, জন ল্যাংডন লিখিত এই বইয়ে স্বয়ং লেখকের নামও অ্যামবিগ্রাম হিসেবে লেখা হয়েছে।
এছাড়াও অনেক সঙ্গীত ব্যান্ড এর লোগো এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের লোগো তে এম্বিগ্রাম ব্যাবহার হচ্ছে ।

[u][b]আমার বন্ধু রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান ( শখের এম্বিগ্রামিস্ট) এর করা কিছু এম্বিগ্রাম ( কাগজ এবং কলমের সাহায্যে করা ):[/b][/u]
এক বন্ধুর বাসায় স্ক্যানার ছিল । স্ক্যান করে এডীট করে উপরে লেখাগুলো লাগিয়েছি। আর হ্যা এগুলা কোন জায়গায় শেয়ার করলে লেখক এর নাম বাধ্যতামুলক।নিচের ফ্লিকার লিঙ্কটাতে গেলেই পাবেন ।

https://flic.kr/s/aHsjvRTXxU

পরিশেষে যারা পরেছেন তাদের কাছে লোডিং টাইম এবং বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ধন্যবাদ।

বিঃদ্রঃ পুর্বে পোস্ট টি প্রজন্ম ফোরামে প্রকাশ করা হয়েছিল ।

2 thoughts on “অ্যামবিগ্রাম’ নিয়ে কিছু কথা ও কিছু এম্বিগ্রাম1 min read

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *